লাউয়ের পিস তিন টাকা, বিপাকে কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৮-১১-২০২৬ ০২:৫১:২৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৮-১১-২০২৬ ০২:৫১:২৮ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
কৃষকের ক্ষেতে পানির দরে লাউ; প্রতি পিস মাত্র তিন টাকা। তার পরও চাহিদা নেই। এই দামে লাউ বিক্রি করে এর উৎপাদন খরচ তোলা দূরে থাক, অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন খরচও উঠছে না। এমন অবস্থা কুড়িগ্রামের লাউ চাষিদের। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা।
কৃষকরা বলছেন, নিকট অতীতে লাউয়ের এমন মূল্য বিপর্যয় দেখেননি তারা।
চড়া দামে জমি ভাড়া ও কৃষি উপকরণ কিনে আবাদ করে তাদের অনেকে এখন নিঃস্ব।
কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়ায় লাউ চাষ বেশি হওয়ায় বাজারে সবজিটির দাম কমে গেছে।
সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামের লাউ চাষি ফিরোজ আলমের ভাষ্য মতে, এবছর ২০ শতক জমিতে লাউয়ের আবাদ করতে খরচ পড়েছে ২০ হাজার টাকা। জমি চাষ, চারা সংগ্রহ, সার, কীটনাশক ছাড়াও লাউয়ের মাচা তৈরিতে এই খরচ হয়েছে, কিন্তু এ পর্যন্ত লাউ বিক্রি করেছেন মাত্র ২০০ টাকার।
লাউ চাষ করে বিপদে পড়া এই কৃষক নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কুড়িগ্রাম জিয়া বাজারে কয়েক দিন আগে ৩৬টি লাউ আড়তে বিক্রি করেছেন মাত্র ১১০ টাকায়। তিনি জানান, এই টাকায় কোনো মতে পরিবহন খরচ মেটালেও তার যাতায়াতে গুনতে হয়েছে বাড়তি টাকা। তার ধারণা, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় লাউয়ের আবাদ হয়েছে বেশি, তাই বাজার পড়ে গেছে।
একই গ্রামের কৃষক খন্দকার এনামুল হক জানান, ৮০ শতক জমিতে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে লাউয়ের আবাদ করে পেয়েছেন চার হাজার টাকা। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের পাইকারি বাজারে তিন-চার টাকায় লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে।
এতে পরিবহন খরচ তোলাই কঠিন। তাই জমির পাশের সড়কের পাশে লাউ তুলে রাখা হয়েছে, পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করছেন প্রতি পিস। কিনছেন পথচারীরা। তার পরও ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে না পারায় লাউ পচে যাচ্ছে জমিতে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এনামুল বলেন, ‘আমার পুঁজি সব শেষ। ধারদেনা আছে। তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছি না। আমার কী হবে জানি না।’
রাজারহাট উপজেলার দেবালয় গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক বাবুল মিয়া জানান, গত বছর জমিতেই প্রতি পিস লাউ বিক্রি হয়েছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এবার ভালো দাম পাওয়ার আশায় ৩০ শতক জমিতে লাউয়ের চাষ করেন তিনি, কিন্তু লাউয়ের ক্রেতাই নেই। গত কয়েক বছরে লাউয়ের বাজার এমন মন্দা দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।
একই অবস্থা এই গ্রামের সুরুজ মিয়াসহ অনেক কৃষকের। লাউ আবাদ করে সবাই চোখে অন্ধকার দেখছেন। প্রতিএকর জমি ৪০ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে বাড়তি দামে অন্যান্য পণ্য কিনে চাষ করে এখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক বর্গাচাষি। অনেকে আগাম আলু চাষ করার চিন্তা করলেও পুঁজি ফুরিয়ে গেছে লাউ চাষ করে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, গত বছর লাউয়ের দাম বেশি পাওয়ায় এ বছর কৃষকরা বেশি করে লাউয়ের চাষ করায় দাম কমে গেছে। ভালো দাম পাওয়ার জন্য কৃষকদের আগাম সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স